দেশজুড়ে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কেন? 

জ্বালানি ঘাটতি, বকেয়া নাকি পরিকল্পিত ‘স্যাবোটাজ’—উঠছে নানা প্রশ্ন

জাতীয়
জ্বালানি ঘাটতি, বকেয়া নাকি পরিকল্পিত ‘স্যাবোটাজ’—উঠছে নানা প্রশ্ন
২৬ আগস্ট ২০২৬, ৭:০২ পিএম

হঠাৎ করেই দেশজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল—প্রায় সর্বত্রই বেড়েছে লোডশেডিং। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, আবার কোথাও দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বিদ্যুৎনির্ভর শিল্পকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতেও এর প্রভাব পড়ছে।

বিদ্যুতের পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ নিয়েও দেখা দিয়েছে সংকট। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়িতেও অনেক এলাকায় রান্নার কাজে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—হঠাৎ করে কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো? ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নানা সমস্যা থাকলেও বর্তমান সময়ের মতো এত ব্যাপক সংকট কেন দেখা যাচ্ছে?

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি খাতের কর্মকর্তা এবং বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে সংকটের পেছনে একাধিক কারণ সামনে আসে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি, এলএনজি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা, কয়লা ও জ্বালানি তেলের সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থাপনার নানা দুর্বলতা।

এর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগও করা হয়েছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে বিভিন্ন সময়ে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস, এলএনজি ও কয়লার সরবরাহ ঘাটতিকে সামনে আনা হচ্ছে। যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস বা তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, সেগুলোর একটি অংশ প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বাড়াতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশ প্রাকৃতিক গ্যাসনির্ভর। ফলে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গ্যাসের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় কমে যাওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং আমদানির সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে গিয়ে অনেক সময় প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।

এ কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। একই সঙ্গে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ।

তার মতে, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থায় স্থানীয় জ্বালানির পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতার মাত্রা বেড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে বাংলাদেশের ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।

দেশে এলএনজি সংরক্ষণ ও সরবরাহের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ফলে প্রয়োজনের সময় অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি করলেই তাৎক্ষণিকভাবে সংকট সামাল দেওয়া সবসময় সম্ভব হয় না।

বর্তমান সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দীর্ঘদিনের বকেয়া।

দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র সরকারের কাছে তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের দাবি, বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হলে তারা সংরক্ষিত জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়াতে পারবেন।

বাংলাদেশ প্রাইভেট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানিয়েছেন, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা পরিশোধ করা হলে তারা উৎপাদন বাড়াতে প্রস্তুত।

তার দাবি, বর্তমানে কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে জ্বালানি মজুত থাকলেও অর্থনৈতিক কারণে নতুন করে জ্বালানি সংগ্রহ ও উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তবে এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া কেন দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকল এবং সংকটের সময়ই কেন বিষয়টি এত বড় হয়ে সামনে এলো?

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বন্ধ বা আংশিক উৎপাদনে থাকা কেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা গেলে জাতীয় গ্রিডে কয়েক হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে।

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যেসব কেন্দ্র জ্বালানি বা আর্থিক সংকটের কারণে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যেতে পারছে না, সেগুলোকে দ্রুত কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবে কত দ্রুত ফল দেবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একটি মহলের বিরুদ্ধে ‘স্যাবোটাজের’ অভিযোগ তোলা হয়েছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলে সেটিকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ অভিযোগের সঙ্গে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা, আমলা ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামও বিভিন্ন সূত্রে এসেছে।

তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে পর্দার আড়াল থেকে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সাবেক সরকারের সময় প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা কিছু কর্মকর্তা এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছেন। তাদের একটি অংশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ছাড়া তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের মানুষ। বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোথাও কোথাও এক ঘণ্টার পরিবর্তে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের একাংশ মনে করেন, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি থাকলে লোডশেডিং করতেই হয়। তবে কোন এলাকায় কত সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে, তা কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

লোডশেডিংয়ের সঠিক তথ্য, সময় ও কারণ নিয়মিত মনিটরিং করা গেলে অতিরিক্ত লোডশেডিং বন্ধ করা সম্ভব হতে পারে।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ, ভাঙচুর এবং কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনাও ঘটছে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে একটি মহল সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে এবং সেই ক্ষোভ অন্যদিকে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি জানান, নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে এ দুই খাতে দীর্ঘস্থায়ী সংকট তৈরি হলে তা দ্রুত রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়লে রাজনৈতিক দলগুলো সেটিকে নিজেদের কর্মসূচিতে ব্যবহার করতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংকটের পেছনে অবশ্যই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে।

এ কারণে অভিযোগ ও বাস্তব সংকট—দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

ক্যাবের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলমের মতে, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে দুর্বল করেছে।

অন্যদিকে অধ্যাপক ম. তামিম মনে করেন, বর্তমান সংকটের বড় কারণ দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি। তার মতে, স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে।

অর্থাৎ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—বর্তমান সংকটকে শুধু সাম্প্রতিক কয়েক মাসের ঘটনা হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের জ্বালানি নীতি, অবকাঠামো, আমদানি ব্যবস্থা এবং ব্যবস্থাপনার বিষয়ও জড়িত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রথমত, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস, এলএনজি, কয়লা ও তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা।

দ্বিতীয়ত, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া অর্থের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং যেসব কেন্দ্র উৎপাদনে যেতে সক্ষম সেগুলোকে গ্রিডে ফিরিয়ে আনা।

তৃতীয়ত, কোথায় কত সময় লোডশেডিং হচ্ছে তার স্বচ্ছ ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা।

এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে পরিকল্পিত নাশকতা বা কারসাজির কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তারও নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।

বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে শুধু সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালেই হবে না। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, কয়লা ও তেল আমদানির বিকল্প ব্যবস্থা, এলএনজি সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি।

একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন, ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি ক্রয়, আমদানি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—এটি কি শুধুই জ্বালানি ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যার ফল, নাকি এর পেছনে পরিকল্পিত কোনো কারসাজিও রয়েছে?

সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ‘স্যাবোটাজের’ অভিযোগ করা হলেও এর সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক তদন্ত। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, এলএনজি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা, গ্যাসের ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া এবং দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভর নীতিকেও সংকটের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাই রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রতিটি স্তর—উৎপাদন, আমদানি, মজুত, সরবরাহ, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া এবং বিতরণ ব্যবস্থা—নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

কারণ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট শুধু লোডশেডিংয়ের সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন। ফলে সংকটের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করতে না পারলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বাড়তে পারে।