শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
Logo

আ.লীগ-জাপার নেতাদের স্থান দেওয়ার অভিযোগে উত্তাল ১১ ইউনিয়ন

বিশেষ প্রতিনিধি |

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির ১১টি ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। সদ্য ঘোষিত এসব কমিটিতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

তাদের দাবি, ১১টি ইউনিয়ন কমিটিতে অন্তত ৪৭ জন এমন ব্যক্তি স্থান পেয়েছেন, যাদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শ্যামনগর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই কয়েকটি ইউনিয়নে কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২ নম্বর কাশিমাড়ী ইউনিয়নে এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর ধরে যারা দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটিতে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ১০ নম্বর আটুলিয়া, ৫ নম্বর কৈখালী, ১১ নম্বর পদ্মপুকুর, কাশিমাড়ী ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি নিয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে।

আটুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে মো. আসাদুজ্জামান মিঠুকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর লিখিত অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে বিএনপির পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন। ওই অঙ্গীকারনামায় ভবিষ্যতে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত না থাকার কথা উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

কৈখালী ইউনিয়ন কমিটিতে কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সঙ্গে অতীত সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা আমিনুর রহমান মেম্বার, আব্দুর বারি, আব্দুল আলিম, আব্দুর রহিম মিলন, আরব আলী, মোসা. নার্গিস ও সুশান্ত মণ্ডলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন।

পদ্মপুকুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতেও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে কয়েকজনের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নেতারা।

কাশিমাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে আক্তার ফারুক মেম্বার, হামিদুল কবির বাবু, শহীদ সরদার, আব্দুল মান্নান ও নুরুল আমিন তরফদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নেতারা।

এছাড়া অমিয় কুমার রায় ও সুপদ কুমারের বিরুদ্ধে যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জি এম রাশেদুল ইসলামকে নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি অতীতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি পদে ছিলেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলাইমান কবির ও সদস্য সচিব আশিক ইলাইহি মুন্নার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, দল পুনর্গঠনের সময়ে অন্য দল বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদক : কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন