শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
Logo

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গাজীপুরে জমির সীমানাপ্রাচীর ভাঙার অভিযোগ

মো.আলমগীর ইসলাম

গাজীপুর সদর উপজেলার শিরিরচালা গ্রামে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ৭২ দশমিক ৫০ শতাংশ জমিতে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) ভোররাত ৩টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসংলগ্ন ওই জমির প্রায় ২০ বছর পুরোনো সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়। ভুক্তভোগী ওসমান গনি দাবি করেন, জমিটি নিয়ে উচ্চ আদালতে দেওয়ানী রিভিশন মামলা নম্বর ১৬১২/২০২৬ চলমান এবং সেখানে স্থগিতাদেশ রয়েছে।

ওসমান গনি জানান, গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে উচ্চ আদালতের বিচারক মি. জাস্টিস মোহাম্মদ জাকির হোসাইন ওই জমির ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন। এরপর থেকে কোনো পক্ষই জমিতে কোনো ধরনের কার্যক্রম চালায়নি। তবে পরবর্তীতে রাতের আঁধারে স্থানীয় রফিক মিয়া, হারুন অর রশীদ ওরফে নছ মিয়া, মোশারফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম সীমানাপ্রাচীরটি ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও যারা সীমানাপ্রাচীর ভেঙেছে, তারা আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করেছে। আমি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি’।

ঘটনার পর এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওসমান গনি।

এদিকে, ওই জমিতে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে ভাড়ায় চায়ের দোকান পরিচালনা করছেন মোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় ১৯ বছর ধরে ওসমান গনি গংদের ভাড়া দিয়ে এখানে দোকান করছি। গত ১৭ আগস্ট রাত ১১টার দিকে রফিক মিয়া গং আমাকে দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেন। দোকান না ছাড়লে জবাই করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে’।

অপর দোকানি উজ্জল বলেন, ‘যেহেতু জমি নিয়ে মামলা চলমান, তাই যিনি প্রকৃত মালিক, তাকেই আমি ভাড়া দিতে চাই। তবে বর্তমানে খুব শঙ্কার মধ্যেই ব্যবসা করতে হচ্ছে’।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রফিক মিয়া। তিনি বলেন, ‘তারা নিজেরাই (অভিযোগকারী) সীমানাপ্রাচীর ভেঙে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে’।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়দেবপুর থানার এসআই সুজন রঞ্জন তালুকদার বলেন, ‘আমি এখনও ওই অভিযোগের তদন্ত করতে পারিনি। শিগগিরই তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।

সম্পাদক : কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন