শ্যামনগরে
বিকাশের PIN ও OTP হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, তদন্তের দাবি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৫ নম্বর কৈখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান মোড়সংলগ্ন এলাকায় বিকাশের PIN ও OTP হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি চক্র বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এসব গোপন তথ্য সংগ্রহ করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কিছু মানুষের নজরে আসেন। এ ঘটনায় কয়েকটি ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। পাশাপাশি প্রতারণার শিকার কয়েকজন বাসিন্দার বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে কয়েকজনকে আটক করে রাখার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীসহ স্থানীয় লোকজন জড়ো হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একপর্যায়ে বিষয়টি ভিন্নভাবে পরিচালিত হয়। ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে কথিতভাবে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এ সময় অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কারা বিকাশের PIN ও OTP সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া দরকার।
এ ছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, কেউ যদি প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর না করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন, তদন্তে সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সাধারণ জনগণের দাবি, প্রশাসন ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করুক। প্রতারণার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে বিকাশের PIN, OTP ও অন্যান্য গোপন তথ্য কাউকে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মো. আজমির হোসেন, শ্যামনগর প্রতিনিধি 





আপনার মতামত লিখুন