পোশাক খাতে র‍্যাংকিং বাড়াতে ভারত থেকে টেক্সটাইল সোর্সিংয়ের ওপর জোর

পোশাক খাতে র‍্যাংকিং বাড়াতে ভারত থেকে টেক্সটাইল সোর্সিংয়ের ওপর জোর
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

তৈরি পোশাক খাতে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ধরে রাখতে ভারত থেকে উচ্চমানের টেক্সটাইল সোর্সিং এবং বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ‘এক সাপ্লাই চেইন, দুই দেশ, এক বৈশ্বিক লক্ষ্য’ ধারণা বাস্তবায়ন করতে পারলে উভয় দেশই আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেমম্বর) রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফইসি) ‘সিমলেস লজিস্টিকস অ্যান্ড ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত টেক্সটাইল ভ্যালু চেইন এগিয়ে নেওয়া’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই) সেমিনারটির আয়োজন করে। সহ-আয়োজক ছিল কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সিবিশন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস (সেমস-গ্লোবাল)।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাজিরুল শোভন ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের নেতৃত্ব ধরে রাখতে হলে ভ্যালু-অ্যাডেড বা উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন উন্নতমানের টেক্সটাইল, যার অন্যতম সহজলভ্য উৎস ভারত।’

তিনি বলেন, ‘ভারত বা বাংলাদেশ কে কতটা লাভবান হবে, সেই হিসাব না করে দুই দেশের যৌথভাবে কাজ করার পথ খুঁজতে হবে। একটি সমন্বিত আঞ্চলিক টেক্সটাইল ও পোশাক সাপ্লাই চেইন গড়ে তুলতে পারলে বৈশ্বিক বাজারে উভয় দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।’

সেমিনারে আইবিসিসিআইর সহসভাপতি অমিত কুমার তিওয়ারি, পরিচালক এ. কে. এম. সাইফুর রহমান, এ. টি. এম. আলতাফ হোসেন লোটাস, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার কান্ট্রি হেড ও আইবিসিসিআইর পরিচালক অমিত কুমার এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের উপপরিচালক মো. ফাইজুর রাব্বী বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের টেক্সটাইল এবং অ্যাপারেল শিল্পের সাপ্লাই চেইন আরও শক্তিশালী করতে আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন, সীমান্ত বাণিজ্য সহজীকরণ এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। বাণিজ্য ও পরিবহন-সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা কমানো গেলে বৈশ্বিক টেক্সটাইল বাজারে দুই দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়বে।

সেমিনারটি সেমস-গ্লোবাল ইউএসএর আয়োজনে চলমান ২৫তম বাংলাদেশ এডিশনের ‘টেক্সটাইল সিরিজ অব এক্সিবিশন্স’-এর অংশ। ২ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে ২৫তম টেক্সটেক বাংলাদেশ ২০২৬, ২৬তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফ্যাব্রিক শো ২০২৬ (সামার এডিশন) এবং ৫৩তম ডাই+কেম বাংলাদেশ ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ৩৭টি দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৭৫টি প্রতিষ্ঠান ২ হাজার ২৪৫টির বেশি বুথ ও প্যাভিলিয়নে অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনীতে টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল মেশিনারি, সুতা, কাপড়, ট্রিমস, অ্যাকসেসরিজ, ডাইস্টাফ, কেমিক্যালস ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে। এবারের আসরে ‘ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন জোন’ও যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ইআরপি, অটোমেশন, ক্লাউড সিস্টেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইওটি এবং ডিজিটাল মেশিনারিভিত্তিক বিভিন্ন সমাধান তুলে ধরা হচ্ছে।

প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ব্যবসায়িক দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এটি শেষ হবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর।