সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে বিএলসি নবায়নে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদের বিরুদ্ধে
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) নবায়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কৈখালী ও কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের দায়িত্বে থাকা বন কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায়।
অভিযোগ রয়েছে, সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য বিএলসি নবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি রাজস্বের বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নটাবেকি, হলদেবুনিয়া ও কাঁছিকাটাসহ কয়েকটি অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া আহরণের সুযোগ দেওয়ার নামে ‘স্পেশাল টহল টিম’-এর কথা বলে নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, সুন্দরবনের সংরক্ষিত ও অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ-কাঁকড়া আহরণের ক্ষেত্রে বন বিভাগের অনুমতি, পাস-পারমিট এবং নির্ধারিত রাজস্বের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সরকারি ফির বাইরে কোনো ধরনের অর্থ আদায় হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায়। তিনি বলেন, তাকে কৈখালী স্টেশনের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কৈখালী ও কদমতলা স্টেশনে সরকার নির্ধারিত রাজস্বের বাইরে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে তিনি ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেন।
অভয়ারণ্য এলাকায় নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামা প্রসাদ রায় প্রথমে বলেন, “ওই এলাকা আমার না। তারা নিতে পারে। তবে কারা নেয়, তা জানা নেই।” পরে তিনি বলেন, “নটাবেকি এলাকা কদমতলার আওতাধীন। আমি কদমতলার অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, তিনি স্টেশন অফিসারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন। এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিএফ ইমরান আহমেদের সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সম্পদ। এ বনাঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল হাজারো জেলে ও বনজীবীর জীবিকা। ফলে পাস-পারমিটের নিয়ম ভঙ্গ, অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ-কাঁকড়া আহরণ কিংবা সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা থাকলে তা বনজ সম্পদ সংরক্ষণ ও সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
স্থানীয় জেলে ও বনজীবীদের দাবি, বিএলসি নবায়ন, পাস-পারমিট এবং সুন্দরবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফি ও নিয়ম-কানুন স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে বিএলসি নবায়ন ও সুন্দরবনে প্রবেশ সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।







আপনার মতামত লিখুন